👁 340 Views

হিলি রেলস্টেশন থেকে পিডব্লিউ অফিস সরানোর ঘটনায় ক্ষোভ,উন্নয়ন থমকে যাওয়ার আশঙ্কা

গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুরের হিলি রেলস্টেশনের পিডব্লিউ (পথ ও প্রকৌশল) অফিস ভবনটি একটি ঝড়ের কারণে গাছ পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ ভবনটি সংস্কার না করে অফিসটি জয়পুরহাটে সরিয়ে নেওয়ায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হিলি রেলস্টেশনটি ব্রিটিশ আমলের একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র যেখানে একসময় বিরামপুর থেকে সান্তাহার পর্যন্ত রেলপথের ইঞ্জিনিয়ারিং কার্যক্রম পরিচালিত হতো। লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ, ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, সিগন্যালিং ও স্টেশন পরিচালনার কাজ এই পিডব্লিউ অফিস থেকেই হতো। স্থানীয়রে অভিযোগ, অফিস সরিয়ে নেওয়ার ফলে মূল্যবান যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে, আর কোনো সুরক্ষিত ভবন না থাকায় এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ভবিষ্যতে রেলের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে,বলে তারা এমন আশঙ্কা করছেন ।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার খাঁন জানান, হিলি রেলস্টেশনটি আমারে গর্ব, কিন্তু অফিস সরানোর কারণে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবনের আশপাশের রেললাইনের রক্ষণাবেক্ষণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় সেগুলো হারিয়ে যাওয়া বানষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পিডব্লিউ অফিসের জায়গাটি এখন অনেকাংশ অব্যবহৃত হয়ে পড়ায় সেখানে গবাদিপশুর চারণভ’মিতে পরিণত হয়েছে,যা এলাবাসীর মধ্যে আরও ক্ষোভ তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, এই ঐতিহ্যবাহী স্টেশন থেকে অফিস সরানোর ফলে আমাদের এলাকার রেল উন্নয়ন বিঘ্নিত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক হোসেন জানান, আমরা দাবি করছি পিডব্লিউ অফিস হিলিতে পুনরায় চালু করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্থ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা হোক, যাতে হিলির রেল কার্যক্রম ফের স্বাভাবিক হয়।

নাগরিক কমিটি হাকিমপুর, দিনাজপুরের আহ্বায়ক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, হিলি রেলস্টেশন ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্য, একসময়ে এখান থেকেই সান্তাহার পর্যন্ত রেলপথের সব কাজ হতো। রেলের এই অবহেলা হিলির উন্নয়নকে আটকে দিচ্ছে। পাশাপাশি হিলি রেলস্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজের দাবি জানিয়ে আসছে এলাকাবাসী।

রেলওয়ে হিলির ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, অফিস ভবনটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় আপাতত জয়পুরহাটে অস্থায়ীভাবে অফিস পরিচালনা করা হচ্ছে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারে অনুমোনে এখান থেকেই দাপ্তরিক কাজ চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *