শাহ্ আলম শাহী, বিশেষ প্রতিনিধি :
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জে ড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে যে খালগুলো খনন করা হয়েছিল, বিগত সরকারগুলো সেগুলো সংস্কার বা পুনঃখননে কোনো দায়িত্ব পালন করেনি। অথচ দেশের কৃষিখাত ও অর্থনীতিতে এই খালগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচিই পুনর্জীবিত করছে। এই কর্মসূচিতে শুধু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নয়,অন্যান্য মন্ত্রী, এমপি,প্রশাসনিক কর্মকর্তা,কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিবে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষ ‘কাঞ্চন’ এ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী আরো বলেন,বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষির উন্নয়নের লক্ষ্যে খাল খননের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এই উদ্যোগটি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে, তেমনি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব এবং শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রেখে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমবে এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যা দেশকে মরুভূমি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণের হার দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। এই অঞ্চলে বৃক্ষরোপণের হার মাত্র ৮-৯ শতাংশ, যেখানে পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য ২০-২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা জরুরি। আমরা যদি দেশের সবুজ বিপ্লবকে সত্যিকার অর্থে সফল করতে চাই, তবে এ ধরনের কার্যক্রমকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিতে হবে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে, আগামী ১৬ মার্চ কাহারোলে খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে এই মহৎ উদ্যোগের শুভ সূচনা করা হবে।’
এর আগে শুক্রবার (১৩ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোলের বলরামপুর সাহাপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশ্নোত্তরে ডা. জাহিদ হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে এই খাল খনন কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশের ৫৩টি এলাকায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হবে।
তিনি বলেন, যেমন ফ্যামিলি কার্ড আমরা ১৪টি জায়গায় চালু করেছি, ঠিক একইভাবে খাল খনন কর্মসূচিও ১৬ মার্চ উদ্বোধন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য খালের নাব্যতা বৃদ্ধি এবং পানি নিষ্কাশন সহজ করা।
এসময় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।