[post-views]

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা, ২৫ জনের বিরুদ্ধেমামলা

এস. এম. সাইফুল ইসলাম কবির: খুলনায় চুরির অভিযোগ তুলে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে (২২) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার পরও হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হলের পেছনের ইসলামনগর সড়কের মসজিদ গলির একটি মেসে আজমুলকে চুরির অভিযোগ তুলে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে ভবনের ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

রাত দেড়টার দিকে কয়েকজন যুবক তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছু সময় পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে আজমুলের পরিবারের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে জানিয়েছেন তার বাবা। কুতুবউদ্দিন বলেন, কয়েকজন ছেলে ফোন করে জানিয়েছিল, “আপনার ছেলে আমাদের জিনিস চুরি করছে, এখনই এক লাখ টাকা দিতে হবে।” পরে ওই ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে তিনি চুয়াডাঙ্গা থেকে খুলনায় এসে হাসপাতালে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

মেসের পাশের একটি বাড়ির এক নারী জানান, ছাত্রদের কাছে তিনি শুনেছেন, আজমুল এক ছাত্রের মিলের খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। পরে ভাত চুরি করে খাওয়ার অভিযোগ তুলে কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত তাকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন। দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে তিনি চিৎকারের শব্দ এবং পরে ছাদ থেকে কিছু পড়ে যাওয়ার শব্দ শুনেছেন বলে জানান।

পুলিশ বলছে, আজমুলের মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি ইকবাল হোসেন জানান, যে ভবনে আজমুল থাকতেন সেখানে ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাঁদের অনেকের সঙ্গে আজমুলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ছিল এবং তার প্রতি ক্ষোভও ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিভিন্ন সময় তাঁর বিরুদ্ধে জামা, গেঞ্জিসহ বিভিন্ন জিনিস চুরির অভিযোগ ছিল বলেও জানান তিনি। তবে এসব অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি বলেন, “হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

নিহত আজমুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুবউদ্দিনের ছেলে। তিনি নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার জানান, ১০ সেপ্টেম্বর আজমুল ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তেমন কিছু জানত না। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আজমুল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী আবাসিক হলের পেছনের মসজিদ গলির একটি মেসে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।