
রোস্তম আলী কাহারোল দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ
আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাহাপাড়া খাল খনন কর্মসূচি শুরু হলো ১২ কিলোমিটার খাল পনঃখনন শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক উপকৃত হবে। এই খাল থেকে পানি নিয়ে কৃষকরা ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে পারবে। সুবিধার আওতায় আসবে সাড়ে ৩ লাখ মানুষ। সবচেয়ে বড় বিষয় এই এলাকার কৃষকরা যে ফসল উৎপাদন করছে, তার থেকে ৬০ হাজার মেট্রিক টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে। এই খালের দুপাশে রাস্তা নির্মাণসহ ১০হাজার বৃক্ষরোপণ করা হবে। খাল খনন শেষ হলে আমি আবার পুনরায় দেখতে আসবো জানান বিএনপি’র চেয়ারপার্সন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী আরোও বলেন, মহিলাদের জন্য ফ্যামেলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং আগামী মাসে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প চালু করা হবে। আমরা নির্বাচনের আগে অনেক কথা বলেছি। আমরা বলেছি সারাদেশে ৪ কোটি পরিবারের ফামিলি কার্ড পৌছে দিতে চাই। আমরা সারা দেশে ফ্যামিলি কার্ড দিতে শুরু করেছি। মধ্যপ্রাচ্যে অনেক মানুষ কাজ করে। তাদের বিষয়ে আমরা চিন্তা করছি। তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে অর্থনীতির উপর চাপ পড়েছে। কিন্তু আমরা ওয়াদা করেছি, সেগুলো আমরা এরই মধ্যে শুরু করেছি। খাল কাটার কাজ শুরু করেছি। মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিতে শুরু করেছি। কৃষকদের কার্ড দেয়া হবে। আগামী মাস থেকে কৃষকদের কৃষক কার্ড দেয়া হবে। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও মধ্য কৃষকরা কার্ড পাবেন। শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া ছিলেন কৃষকদের বন্ধু। আমরা কৃষকদের বন্ধু। কৃষক, কৃষানী ভালো থাকলে আমরা ভালো থাকবো। তাই তাদের ভালো রাখতে চাই। বাংলাদেশের কৃষকদের শক্তিশালী ভিত্তির উপর রাখতে চাই।
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর মৌজার সাহাপাড়ায় খাল খনন পরবর্তী আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথাগুলো বলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি দল করি। যেই দলের কাজ হচ্ছে সাধারণ মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ। যেই কাজ করলে সাধারণ মানুষ খুশি হয়। আমরা সেই কাজ করি। গ্রামের মানুষদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে তাহলে কৃষক বাঁচবে, তাহলেই দেশ বাঁচবে। খালগুলো খনন না হওয়ার কারণে পলি গড়িয়ে ভরাট হয়ে গেছে। নদীও ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষার মৌসুমের অনেক খরা হয়। পানি পাওয়া যায় না। আমরা এই বর্ষার পানি খাল খনন করে পুনরায় কাজে ব্যবহার করতে চাই। আমরা এমন ভাবে পানি ব্যবহার করতে চাই, যাতে করে সমগ্র এলাকার মানুষ উপকার পায়। আজকে খাল খনন শুরু করা হল। আগামী ৫ বছর সমগ্র দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে । উজান থেকে যখন পানি আসে তখন নদীর পাশের মানুষ ও পশুর ক্ষতির পাশাপাশি ঘরবাড়ী নষ্ট হয়। আমরা খাল খননের পর বর্ষার সময়ে অতিরিক্ত পানির ধরে রাখবো। উজান থেকে নেমে আসা পানি ধরে রাখতে পারলে আমরা সবাই উপকৃত হবো। শুস্ক কিংবা বর্ষা মৌসুমে কৃষকের পানি সরবরাহ করতে পারি। কৃষির উৎপাদন বাড়াতে হবে। আমাদের এত মানুষের খাবার বিদেশ থেকে আনা সম্ভব নয়। তাই কৃষকের উপরে গুরুত্ব দিতে হবে। তাই পানিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
উত্তরাঞ্চল কৃষক প্রধান এলাকা। কৃষির সাথে জড়িত দেশের অনেক বড় কোম্পানী। আমরা সে সকল কোম্পানীর সাথে কথা বলেছি। ঈদের পর তাদের সাথে বসবো। উত্তরাঞ্চল থেকে কৃষি ভিত্তিক ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সেখানে কৃষকদের সন্তানরা চাকুরীর পাবেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। ২০২৪ সালে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র জনতা স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চাহিদার দ্বিগুণ খাদ্য উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানী করেছিলেন। আমাদেরও পরিকল্পনা করতে হবে। তবে সজাগ থাকতে হবে। কারা বিশৃঙ্খলা করতে চায়। তাদের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। এই কাজগুলো আমার পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। জনগনকে সঙ্গে নিয়ে কাজগুলো আমি করতে চাই । নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে যেমন আমরা সরকার গঠন করেছি। তেমনি আপনাদের সমর্থন ছাড়া কাজ করা সম্ভব নয়। জনগনই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। এই দেশের মালিক জনগন। এই দেশের মালিক আপনারা। আপনারা যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন তাহলে যে কোন পরিকল্পনা কাজ বাস্তবায়ন করতে পারবো।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এড.মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া, দিনাজপুর-১ আসনের এমপি মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ আসনের এমপি সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক, দিনাজপুর-৩ আসনের এমপি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম,কাহারোল উপজেলার বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাদশা ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আলারুল ইসলাম প্রমুখ।