মোঃ বায়েজিদ বোস্তামী, বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জনশক্তির নৈতিক মান নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে সংগঠনটির সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান পলাশ বলেছেন, বাংলাদেশে ৫ লাখ তরুণের একটি তালিকা দিন, যারা মাদক গ্রহণ করে না আমরা সেই ৫ লাখ তরুণকে উদাহরণ হিসেবে দেখাতে পারব।” তিনি দাবি করেন, নৈতিক অবক্ষয়ের স্রোতে গা না ভাসিয়ে চরিত্র ধরে রাখা তরুণদের প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিনাজপুরে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে আয়োজিত ‘A+ সংবর্ধনা–২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজিবুর রহমান পলাশ বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের জনশক্তির নৈতিক মান নিয়ে আমাদের চ্যালেঞ্জ। আমরা বলতে পারি, যদি ৫ লাখ শিক্ষার্থী ছাত্রশিবির করে, তাহলে বাংলাদেশে ৫ লাখ তরুণের একটা তালিকা দিন, যারা মাদক গ্রহণ করে না এই ৫ লাখ তরুণ আমাদের কাছে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যদি বলা হয় আজকে নৈতিক অবক্ষয়ের গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে চরিত্র নষ্ট করেনি এমন ৫ লাখ তরুণের নাম বলুন; মাত্র তিনটি শব্দে এমন ৫ লাখ তরুণকে প্রতিনিধিত্ব করা যায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, ইসলামী ছাত্রশিবির তোমার জীবনের জন্য সেরা বন্ধুর ভূমিকায় থাকতে চাই। উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে লাইভ চলাকালে তিনি এ বক্তব্যের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের কর্মীদের নৈতিক অবস্থান নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলা দক্ষিণ শাখার সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি সারোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক মোঃ সাইদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মাদ ইব্রাহীম, গার্ডিয়ান পাবলিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুর মোহাম্মদ আবু তাহের এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দিনাজপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক।
অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা জানানো হয়। অতিথিরা শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বের জন্য অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও নৈতিক মূল্যবোধ কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়; জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ে একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভাকে দেশ গঠনের কাজে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
আয়োজকরা জানান, জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাতেই ‘A+ সংবর্ধনা–২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে।