👁 203 Views

নুসরাত হত্যা : হাইকোর্টে ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ আসামির যাবজ্জীবন, খালাস ১০ জন

ঢাকা: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, ৪ আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্য ১০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছে হাইকোর্ট।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে আজ বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা’র সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ে যে ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীম। আজকের রায়ে যে ৪ আসামির সাজা কমিয়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, মাদ্রাসা ছাত্র নুর উদ্দিন, সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের ও উম্মে সুলতানা পপি।

এদিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যে ১০ জনকে আজকের রায়ে খালাস দেওয়া হয়েছে তারা হলেন : সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজী পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসা শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, কামরুন নাহার মণি, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম ও মহি উদ্দিন শাকিল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির। আসামি পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজালাল, এস এম মাসুদ হোসেন দোলন, মোহাম্মদ শিশির মনির ও অপর আইনজীবীরা।

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায় দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। সে রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

দেশে নারী শিশু নির্যাতনের কয়েকটি নির্মম ঘটনার প্রেক্ষাপটে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুধু নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন (ডেথ রেফারেন্স) ও আপিল শুনানির জন্য গত ১০ জুন বিশেষ হাইকোর্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বিশেষ এই বেঞ্চে ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়। শুনানি শেষে আজ এই মামলার রায় দেন হাইকোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *