প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬, ৪:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬, ১:৫০ পি.এম
নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর বৈঠক

ঢাকা: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার বৈধ উপায়ে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি আজ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বৈধ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে এবং আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসে। সরকারের আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বিপুল জনশক্তি প্রেরণকারী এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।
তিনি নৈতিক ও বৈধ অভিবাসনে উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ব্যয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে ইইউ। তিনি বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ আনা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে ইইউ’র অব্যাহত সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়নের স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা আছে। এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একাধিক পরিদর্শক কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইইউকে আহ্বান জানান। এছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ’ প্রকল্পের কার্যক্রম সচল রয়েছে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ মিশনের প্রথম সচিব লরা কার্টানিয়া ল্লাচ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহ, যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Copyright © 2026 Positivebdnews24. All rights reserved.