প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ৩:১৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬, ১০:৪০ এ.এম
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলবে রেলওয়ের ৪টি রুটের যাত্রীবাহী ট্রেন

রুকুনুজ্জামান, প্রতিনিধি পার্বতীপুর: রাজস্ব আয় বাড়ানো ও পরিচালন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের ১১টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পার্বতীপুরকে কেন্দ্র করে চলাচলকারী চারটি ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং চারটিরই দরপত্র দাখিলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
দরপত্রের আওতায় থাকা ট্রেনগুলো, রমনা কমিউটার, রামসাগর মেইল, লালমনি কমিউটার ও বুড়িমারী কমিউটার। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল কার্যালয়ের ২০ আগস্টের ২০২৬ এক চিঠির তথ্য অনুযায়ী, এসব ট্রেনের ভাড়া আদায়সহ বাণিজ্যিক কার্যক্রম বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, রমনা কমিউটারের রুট পার্বতীপুর টু রমনা টু কুড়িগ্রাম টু রংপুর টু পার্বতীপুর। রামসাগর মেইল চলাচল করে বোনারপাড়া টু পার্বতীপুর টু বোনারপাড়া রুটে। আর লালমনি ও বুড়িমারী কমিউটারকে নিয়ে নির্ধারিত রুটটি পার্বতীপুর টু লালমনিরহাট টু বুড়িমারী টু পার্বতীপুর। ফলে চারটি ট্রেনই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এখন প্রাপ্ত দরপত্র খোলা, যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়নের ধাপ রয়েছে। এ কাজের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক, ট্রাফিক (ট্রান্সপোর্টেশন) কে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে উপপরিচালক/টিসি এবং পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের এসিসিএম/আর পর্যায়ের কর্মকর্তাকেও সদস্য করা হয়েছে। দরপত্র যাচাই-বাছাই শেষে কমিটির প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কথা রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের জুনে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানিয়েছিলেন, রাজস্ব ঘাটতি কমাতে ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার প্রস্তাব রেলওয়ের সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ট্রেনগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। অধিকাংশ মেইল ও লোকাল ট্রেনে কম ভাড়া, পরিচালন ব্যয়, টিকিটবিহীন যাত্রী এবং পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেছেন, সব ট্রেনে কার্যকরভাবে টিকিট পরীক্ষা নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত জনবল নেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজস্ব বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলে বর্তমানে ৬২টি আন্তঃনগর, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন ইতোমধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়া হয়েছে বলে রেলওয়ের সূত্র উল্লেখ করেছে। এসব ট্রেন থেকে মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হচ্ছে বলেও জানাযায়। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা, বিপরীতে আয় হয় ৬৪৯ কোটি টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয় ৬২১ কোটি টাকা। আর ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৮২৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয় হয় ৫৬৬ কোটি টাকা। এদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়ার পর ভাড়া আদায়, টিকিট পরীক্ষা, যাত্রীসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। রেলওয়ের বর্তমান উদ্যোগ অনুযায়ী, চারটি ট্রেনের ক্ষেত্রে মূলত বাণিজ্যিক কার্যক্রম বা ভাড়া আদায়ের ব্যবস্থাপনা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে; রেলওয়ের অবকাঠামো ও ট্রেন পরিচালনার অন্যান্য বিষয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
পার্বতীপুর রেলওয়ে জংশন উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলকেন্দ্র হওয়ায় এ চারটি ট্রেনের ইজারা কার্যক্রম স্থানীয় যাত্রীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এখন দরপত্র মূল্যায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন এবং চুক্তি সম্পাদনের পর কবে থেকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে সেদিকেই নজর যাত্রীদের।
Copyright © 2026 Positivebdnews24. All rights reserved.