👁 222 Views

কাহারোলে নিরাপত্তা ঝুকিতেই যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

রোস্তম আলী, কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের কাহারোলে যত্রতত্র  গড়ে উঠেছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা । দৃশ্যমান তদারকি না থাকায়  বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বেড়েছে অনুমোদনহীন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি।

সরকারি নীতিমালা অনুসারে প্রাথমিক সনদের পাশাপাশি  বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ এবং অগ্নিনির্বাপক কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র ছাড়া এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অনুমোদন না থাকলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনেকেই তা মানছেন না।

এছাড়া নিম্নমানের রেগুলেটর ও পাইপ বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। বহুল ব্যবহৃত এই সিলিন্ডার গ্যাস সহজলভ্য হওয়ায় যত্রতত্র দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে। অধিক মুনাফায় মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নিম্নমানের গ্যাস সিলিন্ডার এবং কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে এই গ্যাস সিলিন্ডার। ঝুঁকিপূর্ণভাবে এই এলাকায়ও গড়ে তোলা হয়েছে সিলিন্ডারের দোকান।

গত কয়েক বছরের তুলনায় এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার বেড়েছে কয়েক গুণ। কাহারোল  উপজেলা শহরসহ পল্লী এলাকায় এই গ্যাস এখন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও মানুষ জানে না সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের নিয়মনীতি। সরকারি নির্দেশনা  উপেক্ষা করেই চলছে এই ব্যবসা। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অনেকের নেই অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং অগ্নিনিরোধক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকারের নেই কোন ব্যবস্থা ।

অপরদিকে চাহিদা বাড়ায় এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় নেমেছে। বাজার ধরতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে যাকে-তাকে বিক্রির জন্য সিলিন্ডার সরবরাহ করছে।

 এ ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার ।

দিনাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর জানান,লাইসেন্স বা অনুমোদন ছাড়া এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি এবং মজুদ করার অপরাধে স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে আসছে।

কাহারোল ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম জানান, সড়কের পাশে সাজিয়ে রেখে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করা খুব বিপজ্জনক। এ ছাড়া যত্রতত্র দাহ্য পদার্থ বিক্রির কারণে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

জ্বালানি ও বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুত রাখতে হলে  ব্যবসায়ীকে অবশ্যই বিস্ফোরক সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোকলেদা খাতুন মীম জানান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত রেখেছেন। অনুমোদনহীন গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *